শিরোনাম

মালয়েশিয়ায় অভিযানে ৩৪ বাংলাদেশিসহ আটক ৯৪

dsbnews.net

মালয়েশিয়ার জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগ বৃহৎ অভিযান চালিয়ে ৩৪ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৯৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে।   বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্কান্দার পুটেরি ও কুলাই এলাকায় একযোগে ৪৩টি স্থানে অভিযান চালায় জোহর বাহরু ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ সময় মোট ১৯৯ জনকে তল্লাশি করে ৯৪ জনকে আটক করা হয়। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জোহর ইমিগ্রেশন পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ রুসদি মোহাম্মদ দারুস জানান, অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন অ্যাকশন ইউনিট এবং মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি (AKPS)–এর কর্মকর্তারা অংশ নেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- ৩৮ জন বাংলাদেশি পুরুষ, ১৫ জন ইন্দোনেশিয়ান পুরুষ, ১২ জন মিয়ানমারের পুরুষ, ৬ জন পাকিস্তানি পুরুষ, ৪ জন ভারতীয় পুরুষ, ২ জন ভিয়েতনামী পুরুষ, ১ জন নেপালি পুরুষ, ১ জন থাই পুরুষ, ১০ জন মিয়ানমারের নারী এবং ৫ জন ইন্দোনেশিয়ান নারী। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৬১ বছরের মধ্যে। ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩–এর ধারা ৬ (১ ) (সি) ও ১৫ (১) (সি), এবং ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩–এর ধারা ৩৯ (বি) ভঙ্গের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। এছাড়া, অবৈধ অভিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগে ইমিগ্রেশন আইনের ধারা ৫৬ (১) (ডি) অনুযায়ী দুইজন স্থানীয় নাগরিক এবং একজন প্রাঙ্গণ ব্যবস্থাপককে ধারা ৫৫ই–এর অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের আরও তদন্তের জন্য সেতিয়া ট্রপিকানা ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় ও নিয়োগ না দেওয়ার জন্য নিয়োগকর্তাদের প্রতি কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোনো পক্ষ পরিচালনায় সক্ষম দাবি করলে তার সঠিক তথ্য অফিস থেকে যাচাই করতে নিয়োগকর্তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিপুল অঙ্কের অর্থপাচারের রুট উন্মোচন করল সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদন: সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম শহর দুবাইয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাচারের মাধ্যমে সেখানে ২২৬টি ফ্ল্যাট কিনেছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। পাশাপাশি সেখানকার বিভিন্ন ব্যবসায়ও তিনি বিনিয়োগ করেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মানিলন্ডারিং আইনে সাইফুজ্জামান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি এ তথ্য জানায়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুবাইয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের প্রমাণ মিলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শেষে সাইফুজ্জামান চৌধুরী (৫৬) ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ (৪৬) অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় সিআইডি বাদী হয়ে অর্থ পাচার আইনে মামলা করেছে। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এছাড়া তিনি ইউনাইটেড ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তিনবারের সভাপতি ছিলেন সাইফুজ্জামান। সিআইডি জানায়, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল বারশা সাউথ থার্ড, বারশা সাউথ, বারশা সাউথ ফোর্থ, থানিয়া ফোর্থ, থানিয়া ফিফথ, জাদ্দাফ, হাইবা সিক্সথ, গালফ কমার্শিয়াল, খাইরান, ইয়ালায়েস ২, বুর্জ খলিফা, জাবাল আলি, ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ড, জাবিল সেকেন্ড, মার্শা দুবাই, মে’আইসেম দ্য ফার্স্ট, নাদ আল শেবা ফার্স্ট, ওয়াদি আল সাফা-৩ সহ বিভিন্ন স্থানে ২২৬টি ফ্ল্যাট কিনেছেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এসব ফ্ল্যাটের দাম ৩৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৮ দিরহাম। এছাড়া স্ত্রী রুকমীলা জামানের নামে দুবাইয়ের আল বারশা সাউথ থার্ড এলাকায় এলাকায় ‘কিউ গার্ডেন্স বুটিক রেসিডেন্স-ব্লক বি’ নামে দুটি সম্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়। এর দাম ২২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৯ দিরহাম।  এ ছাড়া সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে দুবাই ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকের দুটি হিসাবসহ চারটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়। এসব ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন অঙ্কের দিরহাম ও মার্কিন ডলারের লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। তৎকালীন সময়ের মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১১ কোটি ২৬ লাখ ৬ হাজার ৭৯৫ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, বিদেশে কোম্পানি নিবন্ধন, বিনিয়োগ ও সম্পত্তি অর্জনের জন্য সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অনুকূলে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।  এভাবে তিনি বিদেশে সম্পত্তি ক্রয়, কোম্পানি নিবন্ধন এবং ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা করার মাধ্যমে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচার করেছেন; যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

শবনম ফারিয়ার পোস্ট, কমেন্টে যা বললেন সারজিস

জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। যার সুনিপুণ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন বহু আগেই, সেই অভিনেত্রী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের পক্ষে বেশ সরব ছিলেন। বর্তমানে তিনি অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। তবে সামাজিকমাধ্যমে তিনি বরাবরের মতোই সরব থেকেছেন।  সম্প্রতি সামাজিকমাধ্যমে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে মতপ্রকাশ করে থাকেন শবনম ফারিয়া। এমনকি কোনো ব্যক্তির রক্তের প্রয়োজন পড়লে সেটিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে থাকেন এবং অনুরাগীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অভিনেত্রী।  এবার অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটাতে পঞ্চগড় ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সেখানে কয়েক দিন থাকার কথাও জানিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কথা বলেছেন এনসিপির প্রধান সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।  বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে শবনম ফারিয়া লিখেছেন— পঞ্চগড় কিংবা কাঞ্চনজঙ্ঘার কাছে ফ্যামিলি নিয়ে দুই-তিন দিন থাকার মতো কোনো রিসোর্ট, হোটেল কিংবা স্টে হোমের মতো কিছু কেউ সাজেস্ট করতে পারেন? অভিনেত্রী ফারিয়ার সেই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে পঞ্চগড় কিংবা এর আশপাশের একাধিক নেটিজেন প্রয়োজনীয় সব তথ্য দেওয়া শুরু করেন। এর মধ্যে মন্তব্য করেন ৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর গড়ে উঠা দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সংগঠক-উত্তরাঞ্চলের অন্যতম নেতা সারজিস আলম।  অভিনেত্রীর পোস্টের মন্তব্যের ঘরে সারজিস আলম লিখেছেন— তেঁতুলিয়ায় থাকবেন। ডাকবাংলো আছে, কম্পারেটিভলি বেটার। তা ছাড়া কয়েকটা এনজিওর রিসোর্টও আছে। পঞ্চগড়ে স্বাগতম।

৪৭ দিন পর জনসম্মুখে জামায়াত আমির, মুখে ঝরল কৃতজ্ঞতা

অসুস্থ হওয়ার দীর্ঘ ৪৭ দিন পর সুস্থ হয়ে জনসম্মুখে এসে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-১০ আসনের কাফরুল দক্ষিণ থানার উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন তিনি। এ সময় তিনি শুরুতেই মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সুস্থ হয়ে আবারও জনসম্মুখে এসে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায়। জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ একমাসের বেশি সময় পর মিডিয়ার সামনে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। এজন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা আদায় করছি।  ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তৌফিক না দিলে আমি আজ এখানে এসে কথা বলতে পারতাম না। এই সময়টা আমার মনে হয়েছে জাতিকে কিছু বলার দায়িত্ব আমার। আমার দায়িত্ব অন্য কেউ পালন করার আর সুযোগ নেই। তাই আমি আল্লাহর দরবারে তৌফিক কামনা করেছিলাম—যেন অন্তত সেই কথাগুলো বলতে পারি, যা মানুষের কল্যাণের জন্য জরুরি। আল্লাহ সেই সুযোগ দিয়েছেন। নিজের অসুস্থতা হয়ে পড়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাবেশের দিন আমি যখন পড়ে যাই, তখন দেশের মানুষ টিভি স্ক্রিন কিংবা হাতে মোবাইলের মাধ্যমে তা দেখছিলেন। তাদের মধ্যে ইউনাইটেড হসপিটালের খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মমিনুজ্জামানও ছিলেন। তিনি তখনই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আমার সমস্যাটা মস্তিষ্কজনিত নয়, বরং হৃদযন্ত্রে হতে পারে। পরবর্তীতে তার আহ্বানে আমি চিকিৎসা নিই।  ডা. শফিকুর রহমান জানান, তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে ২২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠিত হয়। তারা হৃদযন্ত্রে ব্লক শনাক্ত করেন এবং ঝুঁকি বিবেচনায় তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।  তিনি বলেন, চিকিৎসকরা সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক কিংবা আমেরিকার মতো দেশের নাম বলেছিলেন। আমি তাদের আন্তরিক পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞ। তবে আমি জিজ্ঞেস করলাম—আল্লাহ কি কেবল সেই দেশগুলোতেই আছেন?  চিকিৎসকরা বললেন, আল্লাহ সর্বত্র আছেন। আমি তখন বললাম, আল্লাহ যদি সেখানে সুস্থ করতে পারেন, তাহলে তিনি চাইলে আমার জন্মভূমি বাংলাদেশেও আমাকে সুস্থ করতে পারেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, সুস্থতা-অসুস্থতা কার হাতে—এক বাক্যে সবাই স্বীকার করেছেন, আল্লাহর হাতে। তাই আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহই আমাকে আবার জনসম্মুখে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তৌফিক না দিলে আমি আজ এখানে এসে কথা বলতে পারতাম না। এই সময়টা আমার মনে হয়েছে জাতিকে কিছু বলার দায়িত্ব আমার। আমার দায়িত্ব অন্য কেউ পালন করার আর সুযোগ নেই। তাই আমি আল্লাহর দরবারে তৌফিক কামনা করেছিলাম—যেন অন্তত সেই কথাগুলো বলতে পারি, যা মানুষের কল্যাণের জন্য জরুরি। আল্লাহ সেই সুযোগ দিয়েছেন। এর আগে গত ১৯ জুলাই রাজধানীতে নিজ দলের মহাসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জামায়াত আমির। বক্তব্যের এক পর্যায়ে হঠাৎ মঞ্চে পড়ে গেলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে ধরে বসান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি আবার উঠে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে চাইলে আবারও পড়ে যান, পরে মঞ্চে বসেই বক্তব্য চালিয়ে যান। সমাবেশ শেষে দ্রুত তাকে ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।  হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডা. শফিকুর রহমানের রক্তচাপ, গ্লুকোজ ও হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল। মস্তিষ্কে কোনো জটিলতাও ধরা পড়েনি। সতর্কতার অংশ হিসেবে তাকে সেদিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। দীর্ঘ ৪৬ দিন পর আবার জনসম্মুখে ফিরে আসায় তার সুস্থতা নিয়ে দলের ভেতরে স্বস্তি ফিরেছে। জামায়াত নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জনসম্মুখে দেখতে পাওয়া কর্মী-সমর্থকদের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা।

আ.লীগ আমলে লুটের জন্য দখল করা হয় যেসব ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদন: ব্যাংক খাতে জালিয়াতির মাধ্যমে বিতরণ করা বড় অঙ্কের সব ঋণই এখন খেলাপি হচ্ছে। এ কারণে অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। যা ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেসব ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতি বেশি হয়েছে, সেগুলোতেই বর্তমানে খেলাপি ঋণের বোঝা বেশি। মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের কারণে জালিয়াতির শিকার ব্যাংকগুলোই বর্তমানে বেশি দুর্বল। এর মধ্যে অতি দুর্বল ৫টি ব্যাংক একীভূত করা হচ্ছে। ব্যাংক খাতের হালনাগাদ সার্বিক চিত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন লুটপাট হয়েছে। লুটপাট করতে ১১টি ব্যাংক দখল করা হয়েছে। ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকে রাখা আমানতকারীদের টাকা যেমন আত্মসাৎ করা হয়েছে, তেমনি ওইসব টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পাচার করা টাকায় বিদেশে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিলাসবহুল প্রতিষ্ঠান। পাচারের টাকায় জালিয়াতরা এখন দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন। এর মধ্যে গত সরকারের মন্ত্রী, সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী, আমলা ও ব্যাংকাররা আছেন। তারা ব্যাংক খাত থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা বের করে নিয়েছেন। যেগুলো এখন পর্যায়ক্রমে খেলাপি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ার জন্য দায়ী মূলত গত সরকারের আমলে বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতি অর্থাৎ যেসব ঋণ প্রচলিত নিয়মকানুন ভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। সমাজের মধ্যে গড়ে ওঠা ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি সংস্কৃতি এবং সমাজের বহুপাক্ষিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর নেতিবাচক প্রভাবের কারণেই ব্যাংক খাতে ঋণ পরিশোধ না করার প্রবণতা বাড়ছে। এতে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ধরনের ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সংস্কার ও বিধিবিধানের কঠোর প্রয়োগ শুরু করেছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ঋণগুলোতে কঠোর তদারকি আরোপ করেছে। যেগুলো খেলাপি হচ্ছে সেগুলো আদায় বা ঋণের অর্থ কোথায় গেছে তার অনুসন্ধান করছে। শিল্পে বিনিয়োগ হয়ে থাকলে শিল্প সচল করার চাপ দিচ্ছে। ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণের মানে যাতে ঝুঁকি না বাড়ে এবং আমানতকারীদের ওপর যাতে আঘাত না আসে সেদিকে সতর্ক আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিগত সরকারের আমলে জালিয়াতির মধ্যে হলমার্ক গ্রুপের নেওয়া ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণের সবই খেলাপি। বেসিক ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া ৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে এন্যান টেক্স গ্রুপের সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই এখন খেলাপি। ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে অর্ধেকের বেশি খেলাপি। ব্যবসা সচল রাখার জন্য কিছু ঋণে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিসমিল্লাহ গ্রুপের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা জালিয়াতির পুরোটাই খেলাপি। গ্রুপের মালিক পক্ষ ওইসব টাকা বিদেশে পাচার করে দুবাইয়ে ব্যবসা ও বিলাসী জীবন যাপন করছেন। এস আলম গ্রুপ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়েছেন। এর মধ্যে পাচার করেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। গ্রুপের এখন খেলাপি ঋণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ২০ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। সিকদার গ্রুপের ঋণ ১৩ হাজার কোটি টাকা, খেলাপি ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অপর একটি গ্রুপের মোট ঋণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা এর মধ্যে খেলাপি ৭ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। নাসা গ্রুপের অপরিশোধিত ঋণ ৯ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। রপ্তানি বিলের অর্থ দেশে এনে গ্রুপের কিছু ঋণ সমন্বয় করা হয়েছে। ওরিয়ন গ্রুপের অপরিশোধিত ঋণ ১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি দেড় হাজার কোটি টাকা। নাবিল গ্রুপের অপরিশোধিত ঋণ ৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। খেলাপি ৭ হাজার কোটি টাকা। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মোট ঋণ ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। বেনামে নিয়েছেন আরও ২ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ৬৪০ কোটি টাকা। এছাড়া চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের একটি গ্রুপ জালিয়াতির মাধ্যমে যেসব ঋণ নিয়েছে সেগুলো এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংক দখল করে লুটপাট শুরু হয়। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালে লুটপাট চরমে ওঠে। এ কারণে ওই সময়ে খেলাপি ঋণও মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে প্রভিশন ঘাটতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৬ হাজার ১২০ কোটি টাকা। ওই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর আগে দীর্ঘ সময় ব্যাংকগুলোতে গড়ে কোনো প্রভিশন ঘাটতি ছিল না। বরং প্রভিশন উদ্বৃত্ত ছিল। এর আগে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে ছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমে ৮৮ হাজার ৭৩০ কোটি টাকায় নামে। ওই সময়ে প্রভিশন ঘাটতিও কমে দাঁড়ায় ১২০ কোটি টাকায়। এরপর থেকে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে। ২০২১ সালের জুনে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯ হাজার ২১০ কোটি টাকা। একই সময়ে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকায়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ বেড়ে দ্বিতীয়বারের মতো লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করে। ওই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকায়। এ সময়ে প্রভিশন ঘাটতিও বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুনে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। সে সময়ে প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ করেছিল। ওই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকায়। প্রভিশন ঘাটতিও বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই মাসের জুনের খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ করে নতুন সরকার। তারা জানায় আওয়ামী লীগ আমলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হতো না। তথ্য গোপন করে খেলাপি ঋণ কম দেখাত। যে কারণে খেলাপি ঋণের বৃদ্ধির ছিল কম। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে জালিয়াতির সব ঋণ খেলাপি দেখাতে শুরু করে। এতে বেপরোয়া গতিতে বাড়তে থাকে খেলাপি ঋণ। ২০২৪ সালের জুনে তা বেড়ে ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৪ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। বৃদ্ধির হার ৩৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। আগের প্রান্তিকে বেড়েছিল ২৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৃদ্ধির হার ছিল ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকায়। ওই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি প্রথমবারের মতো লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায়। ডিসেম্বরের তুলনায় বেড়েছে ৭৪ হাজার কোটি টাকা, বৃদ্ধির হার ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ওই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে ১ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে।

অস্থির নিত্যপণ্যের দাম, স্বস্তি নেই সবজির বাজারেও

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। বর্তমানে আলু ও কাঁচা পেঁপে ছাড়া বাজারে হাতেগোনা কয়েকটি সবজির দামই ১০০ টাকার নিচে। সেই সঙ্গে মাছ-মুরগিতেও নেই স্বস্তি। বেগুন, সিম, বরবটি থেকে শুরু করে টমেটো; সবই স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। কয়েদিন ধরে বলা হচ্ছিল, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বাড়ছে দাম। কিন্তু কয়েকদিন টানা বৃষ্টি নেই। তারপরও কমছে না সবজির দামের উত্তাপ। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। বাজার ঘুরে দেখা যায়, এককেজি গোল বেগুনের জন্য এখন গুণতে হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। আর লম্বা বেগুন কিনতে লাগছে ১০০ টাকা। ক্রেতার অন্যতম বেশি চাহিদার সবজি ঝিঙা। এই সবজির কেজি এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা। রাজধানীর পলাশী বাজারে লাউ, বরবটির দামও আকাশ চুম্বি। ৮০ টাকায় মিলছে একেকটি লাউ। আর বরবটির কেজি ১০০। টমেটোর গায়ে হাত দেয়া কঠিন। কেজিপ্রতি ভারতীয় টমেটোর মূল্য ১৫০ টাকা। উস্তার কেজি ১০০ আর সিম কিনতে লাগছে ১৮০ টাকা। কাঁচামরিচের দাম এখনো অসহণীয়। এককেজির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। ভারত থেকে আসছে পেঁয়াজ। কিন্তু দামে তার কোন প্রভাব নেই। মিশ্রজাতের দেশি পেঁয়াজের কেজি এখনো ৮০ টাকা। মাছের দামও অস্বস্তিকর। চাষের মাছের দাম কিছুটা কম হলেও দেশি নদীর মাছের গায়ে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। চাষের চিংড়ির কেজি ১ হাজার টাকার বেশি। দেশি বোয়াল কিনতেও লাগছে হাজার টাকা। টেংড়া ৬০০ থেকে ৯০০ আর কাজলী মাছের জন্য গুণতে হচ্ছে ১০০০ টাকা। চাষের কই ও পাবদার কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। ভরা মৌসুমেও ইলিশ মাছের দাম আগের মতোই চড়া। বলা হচ্ছে সরবরাহ কমের প্রভাব পড়েছে বাজারে। এককেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। পাঙাসও বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে।  বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশ মাছের দাম বৃদ্ধির কারণে অন্যান্য মাছের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৭৫ টাকায়। কক মুরগি ৩১০, মোরগ ৩৩০। লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। এছাড়া সোনালি মুরগি কিনতে কেজিপ্রতি খরচ করতে হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। ভোক্তা দিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আসলে ভোক্তারা নানাভাবে ঠকছেন। নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। মূলত সিন্ডিকেট বলতে কিছু নেই। বেপারী ফরিয়াদের খপ্পরে পড়ে কিছু কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলোকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ রইল।’

ইউক্রেনে স্থল নৌ ও আকাশপথে সেনা পাঠাতে প্রস্তত ২৬ দেশ

macron dsbnews.net

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের ২৬টি দেশ ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে অস্ত্রবিরতির পরদিনই দেশটিতে স্থল, নৌ বা আকাশপথে সেনা পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউরোপের ২৬টি মিত্রদেশ। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ৩৫ দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ শীর্ষক এক বৈঠকে শেষে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ ঘোষণা দেন।  তিনি জানান, এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সহায়তা সম্ভবত আকাশ প্রতিরক্ষার আকারে আসতে পারে। এ নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ‘ইউক্রেনের আকাশসীমার সর্বোচ্চ সুরক্ষা’  চেয়েছেন। তবে গত মাসে আলাস্কায় ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর থেকে যুদ্ধ শেষ করার কোনও সম্ভাব্য চুক্তির আশা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ট্রাম্প আরও বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে রাশিয়ার তেল-গ্যাস আমদানি বন্ধ করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিকভাবে মস্কোর যুদ্ধযন্ত্র থামানো যায়। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় হোয়াইট হাউস। ইইউ ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়া থেকে সব ধরনের তেল ও গ্যাস আমদানি বন্ধ করবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গত এক বছরে ইউরোপ রাশিয়ার কাছ থেকে অন্তত ১.১ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের জ্বালানি কিনেছে। যদিও ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি প্রকাশ্যে খুব কম দেশই দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা স্থল সেনা পাঠাবে না। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, এখনই এ ঘোষণা দিলে সেটি পুতিনের পশ্চিমবিরোধী প্রচারণাকে আরও জোরদার করবে। মস্কো বলেছে, ইউক্রেনে পশ্চিমা সেনা মোতায়েন করা যাবে না। বরং রাশিয়াকেই অস্ত্রবিরতির গ্যারান্টারদের মধ্যে থাকতে হবে। আর এটি কিয়েভ ও তার মিত্ররা প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে অস্ত্রবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও রাশিয়া নতুন করে সেনা পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ম্যাক্রোঁ।